Showing posts with label Tourist Guide. Show all posts
Showing posts with label Tourist Guide. Show all posts

স্বপ্নপুরী পার্ক. Sopno Puri Park

স্বপ্নপুরী পার্ক দিনাজপুর 


স্বপ্নপুরী পার্ক

বন্ধুরা আজ আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব বাংলাদেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান দিনাজপুরের পার্ক স্বপ্ন পুরী।
দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার সদর থেকে পনের কিলোমিটার উত্তর দিকে কুশদহ ইউনিয়ন পরিষদের অধীন খালিকপুর মৌজায় বিশাল জায়গা জুড়ে স্বপ্নপুরী অবস্থিত। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৯৮৯ খৃষ্টাব্দ থেকে স্বপ্নপুরীর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আর বর্তমানে স্বপ্নপুরী বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। চিড়িয়াখানা, কৃত্রিম চিড়িয়াখানা, কৃত্রিম মৎস্য জগৎ অনেক সুন্প্রাদর কৃতিক দৃশ্যবলি এবং রেস্টুরেন্ট সহ বিভিন্ন বিনোদন সুবিধা নিয়ে পার্কটি গঠিত হয়েছে।তাছাড়া এখানে রাত্রি যাপনের জন্য রয়েছে দশটি ভিআইপি রেস্ট হাউজ, চোদ্দটি  মধ্যম শ্রেণীর রেস্ট হাউজ ও আটটি  অন্যান্য রেস্ট হাউজ। মূল গেটে দুটি পরী আকাশের দিকে হাত তুলে আপনাকে স্বাগত জানাবে, যা সত্যিই মনকে আন্দোলিত করে তুলবে।

সুবিশাল এলাকা জোরে , তুলনাহীন প্রাকৃতিক  পরিবেশ। সম্পূর্ণ এলাকা জুড়ে আছে বিভিন্ন প্রকার গোলাপ,
চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, রজনীগন্ধা, কসমস, লিলি,  গ্লোবাল,  গাদা-সূর্যমুখী সহ ইত্যাদি ফুল। আরও রয়েছে বিভিন্ন প্রকার ঝাউগাছ, ইপিলইপিল,ওইপেং,  ক্রিসমাসট্রি, ক্যাকটাস,  ঘনসবুজ ঘাসে ঘেরা বাগানের গাছের ডালে বসেছে হাজারো রকম পাখির মেলা, যা হাজারো প্রকৃতি প্রেমিক  পর্যটক ও পরিব্রাজকদের মনোরঞ্জন এবং বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে।
শিক্ষামূলক ভ্রমণ স্বপ্নপুরী পর্যটন কেন্দ্র ছাত্রছাত্রীদের জন্য ভিন্ন মাত্রায় সজ্জিত। যার প্রমাণ স্বপ্নপুরীতে রয়েছে। যেমন শিশু পার্ক, জীবন্ত এবং কৃত্রিম চিড়িয়াখানা সহ অনেক কিছু।
sopnopuri


স্বপ্ন পুরী আছে পর্যটকদের নামাজ পড়ার মসজিদ এবং কারুকার্যময় অজুখানা। আরও আছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ও জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ভাস্কর্য। চোখে স্বাপ্নিক বিস্ময়তা আর অন্তরে মুগ্ধতা নিয়ে স্বপ্নপুরীর লেকে স্পিড বোটে জলবিহারে মেতে ওঠার আছে । লেকের ওপরে তৈরি করা হয়েছে কেবল কার। পর্যটকদের গোসল করার জন্য রংতুলি দিয়ে আকার মত শাপলা ঘাট। সুবিশাল স্বপ্নপুরীর স্থানে স্থানে আছে  অনেক সুন্দর সুন্দর বিশ্রাম ছাউনি। এ যেন নিপুণ হাতের পরশে বাগ-বাগিচার সৌন্দর্যে পেয়েছে নতুনরূপ। এসব বাগান মন-মনকে করে তোলে আকাশচারী ও স্বপ্নময়। স্বপ্নপুরীর রাস্তাগুলো একেকটি একেক রকম। একটি রাস্তার দুই পাশে উদ্বাহু হংসমিথুনের দল। আরেকটি রাস্তার দু’পাশে মাছ আকৃতির ফুলের টপ দিয়ে সাজানো হয়েছে। কৃত্রিম চিড়িয়াখানায় প্রবেশের করার জন্য তৈরি করা হয়েছে চোখ ধাঁধানো রাস্তা। জীবন্ত চিড়িয়াখানায় প্রবেশের প্রধান ফটকটিতে রয়েছে বাংলার ঐতিহ্য, বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখাকৃতির এ ফটক পর্যটকদের শিহরিত করে তুলতে সদা প্রস্তুত।


 সব কিছু  মিলিয়ে বলা যায়, যে কোন পর্যটক যদি একবার স্বপ্নপুরীতে যান তাহলে সত্যিই আপনি স্বপ্নের মাঝে হারিয়ে যাবেন। নিজেকে পশ্ন করবেন, এটা আমি কোন জগতে এসেছি নাকি ঘুমের ঘরে স্বপ্ন দেখতেছি।

স্বপ্ন পরিতে প্রবেশ মূল্য বাস-মিনিবাস (যাত্রীসহ) চারশত টাকা। মাইক্রোবাস-পিকআপ (যাত্রীসহ) দুইশত টাকা। কার-জিপ টেক্সিক্যাব যাত্রীসহ একশত টাকা। গাড়ি ছাড়া গেলে জনপ্রতি বিশ টাকা।
স্বপ্নপুরীর বাংলো ভাড়া নীলপরী তিনশত টাকা (প্রতি ডবল রুম), রজনীগন্ধা চারশত টাকা(প্রতি ডবল রুম), নিশি পদ্ম পনেরশ টাকা (তিন রুমসহ বাংলো), চাঁদনী পাচশত টাকা (প্রতি ডবল রুম), সন্ধ্যা তারা আকশ থেকে তেরশ টাকা (প্রতি ডবল নন এসি ও এসি রুম) 
বিঃ দ্রঃ সময়ের সাথে মূল্য কম বেশি হতে পারে। 

রাজধানী ঢাকা থেকে বুকিং ব্যবস্থাঃ
 ঢাকা থেকেও স্বপ্নপুরীর মোটেল বা বাংলো বুকিংয়ের সুবিধা আছে। ঠিকানা : হোটেলের সফিনা, ১৫২ হাজী ওসমান গনি রোড, আলুবাজার ঢাকা। ফোন : ৯৫৫৪৬৩০-৯৫৬২১৩০।

স্বপ্নপুরীতে রয়েছে খুব কম দামে খাবারের ব্যবস্থা : ভাত, সবজি, ডাল পনের টাকা, ভাত, সবজি, মাছ, ডাল বিষ টাকা ও ভাত, সবজি মুরগি, ডাল ৩০ টাকা।
বিঃ দ্রঃ সময়ের সাথে মূল্য কম বেশি হতে পারে। 
এছাড়াও স্বপ্নপুরীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যটন সুবিধা দিতে একটি আধুনিক হোটেল, চাইনিজ  রেস্টুরেন্ট,  মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে স্বতন্ত্র স্পট, পাখির রাজ্য, বেলকার, রোপকার, মানবিক চৈতন্যে ভাস্কর্য শিল্প ইত্যাদি নির্মাণের পরিকল্পনা মোতাবেক, যার নির্মাণ কাজ  শুরু হয়েছে। স্বপ্নপুরী ভ্রমণে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ।  




bdwrite.com
bdwrite.com


bdwrite.com


ঘুরে আসুন শেরপুরের গজনী অবকাশ থেকে......

গজনী অবকাশ কেন্দ্র শেরপুর 




পাহাড়ের ঢালে, পাহাড় চূড়ায় সারি সারি শাল, গজারী,সেগুন, মহুয়া,  ইউকেলিপটাস, আকাশমনি, মিলজিয়ামসহ আরো নাম না জানা কত শত পাহাড়ি গাছ, বনফুল ও ছায়াঢাকা বিন্যাস যেন বিশাল ক্যানভাসে সুনিপুন শিল্পীর রঙ-তুলি দিয়ে আঁকা। গজনী অবকাশ অতি সহজেই প্রকৃতিপ্রেমীদের হৃদয়ে দোলা দিয়ে যেতে পারে বলেই সারা  বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার প্রকৃতিপ্রেমী নারী-পুরুষ, শিশু, বয়োবৃদ্ধসহ সবাই ছুটে আসেন গজনী অবকাশের মন ছুঁয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করতে।


লাল মাটির উঁচু পাহাড়,  গহীন জঙ্গল, টিলা, মাঝে সমতল  দু’পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে ছন্দ তুলে পাহাড়ী ঝর্ণার এগিয়ে চলা। পাহাড়, বনানী, ঝরণা, হ্রদ এতসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যেও অনেক কৃত্রিম সৌন্দর্যের অনেক সংযোজনই রয়েছে গজনী অবকাশে ।

গজনী অবকাশে কি কি আছে তা  নিম্নে  বিভিন্ন অংশের বর্ণনা দেওয়া হলঃ

 ডাইনোসরঃ
উচ্চতা 33 ফুট। নির্মাণ কাল 2007 পরিকল্পনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, জেলা প্রশাসক, শেরপুর। নির্মাতা ভাস্কর হারুন অর রশীদ খান। এটি একটি বৃহৎ ভাস্কর্য যা দেখে আমরা পৃথিবীর বিবর্তনের  ইতিহাস জানতে পারি।

 ড্রাগনঃ
এটি একটি স্থাপত্যধর্মী ভাস্কর্য। পৃষ্ঠপোষকতায় জনাব নওফেল মিয়া, জেলা প্রশাসক, শেরপুর। ড্রাগনের মাথা দিয়ে প্রবেশ করে ভিতর দিয়ে বের হয়ে যাওয়া একটা অন্যরকম অনুভূতি ।

 জলপরীঃ
ঝিলের পাড়ে নির্মিত  জলপরি। দেখে মনে হয় জল থেকে সদ্য উঠে এসে  শ্রান্ত ক্লান্ত অবস্থায় বসে আছে। সাদা সিমেন্টে নির্মিত ভাস্কর্যটি পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন নওফেল মিয়া, জেলা প্রশাসক, শেরপুর। নির্মাতা  ভাস্কর রায়হান ও শীষ ।



 দন্ডায়মান জিরাফঃ
উচ্চতা ২৫ ফুট। নির্মাণকাল ২০০৮। এটি  গজনীর অন্যতম বৃহৎ ভাস্কর্য। জেলা প্রশাসক সামছুন্নাহার বেগমের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি নির্মিত হয়।


ওয়াচ টাওয়ারঃ
সুউচ্চ শীর্ষ পাহাড় চূড়ায় নির্মিত হয়েছে আধুনিক স্থাপত্য রীতিতে ৬৪ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন নয়নকাড়া ‘সাইট ভিউ টাওয়ার’। এ টাওয়ারের চূড়ায় উঠে এলে চারদিকে শুধু দেখা যায় ধূসর, আকাশী ও সবুজের মিতালি।

পদ্ম সিড়িঃ
এটিও জনাব নওফেল মিয়ার চিমত্মা চেতনা থেকে তৈরী হয়েছিল। সিড়ি বেয়ে আকাশ পানে ওঠা এক অন্যবদ্য সৃষ্টি। রেস্ট হাউস থেকে পাহাড়ের পাদদেশে নামার জন্য আঁকাবাঁকা প্রায় দু’শতাধিক সিঁড়িসহ অত্যন্ত আকর্ষণীয় ‘পদ্ম সিড়ি’ রয়েছে। ‘পদ্ম সিড়ির পাশেই গজারী বনে কাব্য প্রেমীদের জন্য কবিতাঙ্গনের গাছে গাছে ঝোলানো আছে প্রকৃতিনির্ভর রচিত কবিতা। পাহাড়ের পাদদেশে বর্ষীয়ান বটবৃক্ষের ছায়াতলে শান বাঁধানো বেদীসহ বিশাল চত্ত্বর।     


আপনাদের  প্রশ্নঃ কিভাবে গজনী অবকাশ যাব ? 


গজনী অবকাশে আসার জন্য সড়ক পথে যাতায়ত অনেক সহজ। গজনী অবকাশ পর্যন্ত রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মসৃণ পিচঢালা পথ। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে যাতায়াতই সব থেকে ভালো । উত্তরবঙ্গ থেকে টাঙ্গাইল-জামালপুর হয়েও আসতে পারেন সড়ক পথে। শেরপুর শহর থেকে গজনী অবকাশের দুরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে সরাসরি মাইক্রো বাস অথবা প্রাইভেটকারে গজনী অবকাশ যেতে পারেন। ঢাকা থেকে নিজস্ব বাহনে মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার ঘন্টায় ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশে আসা যায়। 

এ ছাড়া ঢাকার মহাখালি থেকে ড্রিমল্যান্ড বাসে শেরপুর আসা যায়। মহাখালী থেকে দুপুর ২টায় ছাড়ে বাস । এছাড়া ঢাকা বঙ্গবন্ধু জাতীয় ষ্টেডিয়াম ৪ নং গেইট থেকে সরাসরী বিকাল ৩-৪টায় শিল্প ও বণিক সমিতির গাড়ী ঝিনাইগাতীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। যারা ড্রিমল্যান্ডে আসবেন। শেরপুর নেমে নিউমার্কেট থেকে ভাড়ায় মাইক্রোবাস ৫০০ টাকায় সোজা গজনী যাতায়াত করা যায়। শেরপুর থেকে লোকাল বাস,টেম্পু, সিএনজি অথবা রিক্সায় গজনী অবকাশ কেন্দ্রে যাওয়া যায়। 

 গজনী অবকাশের আবসন ব্যবস্থা 

শেরপুর জেলা সদরে রাতযাপনের জন্য ৫০ থেকে ৫শত টাকায় গেষ্ট হাউজ রোম ভাড়া পাওয়া যায়।শেরপুর শহরের রঘুনাথ বাজারে হোটেল সম্পদ, শহীদ বুলবুল সড়কে কাকলী ও বর্ণালী গেষ্ট হাউজ, নয়ানী বাজারে ভবানী প্লাজা, বটতলায় আধুনিক মানের থাকার হোটেল রয়েছে। তা ছাড়া অনুমতি সাপেক্ষে থাকতে পারেন সার্কিট হাউজ, সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি, পল্লী বিদ্যুৎ কিংবা এটিআই বেষ্ট হাউজে। ঝিনাইগাতী জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও বন-বিভাগের ডাকবাংলোতে থাকতে পারবেন।

গজনী অবকাশের প্রবেশ ফি

গজনী অবকাশ কেন্দ্রে গাড়ী প্রবেশের জন্য উপজেলা পরিষদ চেকপোষ্ট থেকে বাস-কোচ, ট্রাক-৩ শত টাকা, মাইক্রোবাস, পিকআপ, মেক্সি-১শত ৫০টাকা, জিপ,কার,টেম্পু-১শত টাকা, সিএনজি-৫০টাকা দিয়ে গেটপাস নিতে হবে। অন্যথায় গজনী অবকাশ কেন্দ্রে গাড়ী ঢুকাতে পারবেন না। তা ছাড়া সীমান্ত পথে বিজিবি নকশী ক্যাম্পে সে পাস দেখাতে হবে। আর অবকাশ কেন্দ্রে টাওয়ারের জন্য জন প্রতি ৫ টাকা, শিশু পার্কের জন্য-১০টাক, প্যাডেল বোড ৩০মিনিটে ৪জনে -৬০টাকা, পানসিতরী নৌকায় জন প্রতি-১০টাকা এবং পাতালপুরি ড্রাগন ট্যানেলে জন প্রতি-৫টাকা প্রদর্শনী ফি রয়েছে। 

 গজনী অবকাশের  কোথায় যোগাযোগ করবেন

 একটি কথা ভূলবেন না, গজনী অবকাশ ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন। সীমান্তের দিকে না যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যথায় বিপদ ঘাড়ে চেপে বসতে পারে। শেরপুর জেলা প্রশাসকের নেজারত শাখা “(ফোন) ০৯৩১-৬১২৮৩/০৯৩১-৬১৯৫৪/০৯৩১-৬১৯০০, সার্কিট হাউজ ০৯৩১-৬১২৪৫ (হোটেল সম্পদ) ,০১৭১২৪২২১৪৫( হোটেল সাইদ) ০৯৩১-৬১৭৭৬ (কাকলী গেষ্ট হাউজ), ০১৯১৪৮৫৪৪৫০( টিকেট কাউ্ন্টার চেকপোষ্ট), ০৯৩১-৬১২০৬/০৯৩২-২৭৪৪০০১(ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার) ঝিনাইগাতী প্রেসকাবঃ- ০১৭৩৬৯৯১৪০৫
সংগ্রহঃ মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন